গত ২৯ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলায় একটি জোরালো প্রতীকী প্রতিবাদে ডানপন্থী সংগঠন ‘শিবপ্রতিষ্ঠান হিন্দুস্থান’-এর কর্মীরা “ইসলামপুর” লেখা সাইনবোর্ডগুলি ছিঁড়ে ফেলেন। তারা দাবি করেন যে, শহরটির নাম সরকারি ভাবে পরিবর্তন করে “ঈশ্বরপুর” রাখা হয়েছে।এই ঘটনাটি তরুণ ভারত ব্যায়াম মণ্ডলের প্রধান চত্বরে ঘটে।
সংগঠনটির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিন-চারজন ব্যক্তি একটি কাঠামোর ওপর চড়ে বসছেন এবং ছুরি দিয়ে সবুজ রঙের প্লাস্টিকের “ইসলামপুর” লেখাটি কেটে ফেলছেন। এরপর তারা সেটি মাটিতে ফেলে বারবার পদদলিত করেন। সংগঠনটি এই কাজটিকে একটি “মুসলিম-ঘেঁষা” নামের প্রত্যাখ্যান হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তাদের অভিযোগ, কোলহাপুরের এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে সাঙ্গলির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে “ইসলামপুর” লেখা দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড বসিয়েছেন। তাদের মতে, এটি নবনিযুক্ত জেলা কালেক্টর, পুলিশ সুপার এবং কমিশনারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার একটি “পরিকল্পিত চাল”।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন, তারা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে প্রথমে পুলিশ ও কমিশনারকে এই অননুমোদিত বোর্ডগুলো সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে, তারা নিজেরাই বিতর্কিত সাইনবোর্ডগুলি অপসারণ করেন এবং পরে তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।তারা অন্যান্য স্থান থেকেও একই ধরণের বোর্ড সরিয়ে ফেলেছেন এবং সতর্কবাণী দিয়েছেন যে, প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে তারা এভাবেই বোর্ডগুলো সরাতে থাকবেন।
জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্য রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে ইসলামপুরের নাম পরিবর্তন করে ঈশ্বরপুর করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন মহায়ুতি সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মুঘল আমলের বলে মনে করা নামগুলোকে পরিবর্তন করে দেশীয় বা ঐতিহাসিক ভারতীয় নাম রাখা।এর আগের নাম পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে ২০২৩ সালে ঔরঙ্গাবাদ থেকে ছত্রপতি সম্ভাজি নগর ও ওসমানাবাদ থেকে ধারাশিব এবং ২০২৪ সালে আহমেদনগর থেকে অহল্যানগর।