গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির ছয় নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মণ্ডল আজাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, একই ইউনিটের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ. মান্নান মাস্টার, সাবেক নেতা মো. হাসমত আলী হাসু, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম ও মো. রফিকুল ইসলাম।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি বলেন, ‘গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তা পণ্ড করে দেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।’
এরপর ২০ এপ্রিল গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি একটি জরুরি সভা ডাকে। ওই সভায় আহ্বায়ক কমিটির ২২ জন সদস্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়ে উপজেলা বিএনপির কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই উপজেলা বিএনপি অভিযুক্ত ছয় নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করে।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মণ্ডল আজাদ বলেন, ‘শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা সবার দায়িত্ব। একটি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল সকালে বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে সারোয়ার আউয়ালসহ কয়েকজন নেতা দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। কেন তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি- তা জানতে চাইতে গিয়ে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ করা হয় এবং বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুস সামাদকে মারধর করে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভীত-সন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা ছুটোছুটি করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। পরে অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা ফিরে এসে তালা খুলে দেন।