পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত টিটু পাল হরিদ্বারে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করত। গত ছয় মাস ধরে মোবাইলে কথোপকথনের মাধ্যমে সে ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তিতু পালের বিরুদ্ধে পাথর নিক্ষেপসহ অন্তত ৬টি অপরাধমূলক মামলা থাকলেও সহজ-সরল কিশোরীটি তার অপরাধী পরিচয় সম্পর্কে অন্ধকারেই ছিল।
গত ৫ এপ্রিল তিতু ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি চেতনানাশক ওষুধ দেয়। সে কিশোরীকে নির্দেশ দেয় যেন রাতের খাবারের সঙ্গে ওই ওষুধ মিশিয়ে তার মা ও বোনদের অচেতন করে ফেলে এবং ঘর থেকে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে তার সঙ্গে পালিয়ে আসে।
কথিত প্রেমিকের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে ওই কিশোরী পরিবারের রাতের খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। তা খেয়ে মা ও দুই ছোট বোন অচেতন হয়ে পড়লে কিশোরীটি ঘরে থাকা ১০ হাজার টাকা এবং সোনার গয়না নিয়ে তিতু পালের সাথে পালিয়ে যায়। কিশোরীর বাবা কর্মসূত্রে সউদী আরবে অবস্থান করায় বাড়িতে কোনো পুরুষ অভিভাবক ছিলেন না।
বিয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণ ও লুটতরাজ
পালিয়ে যাওয়ার পর তিতু পাল কিশোরীটিকে একটি ব্যাংকুয়েট হলে নিয়ে যায়। সেখানে তিতু এবং তার তিন সহযোগী মিলে ওই কিশোরীকে পৈশাচিকভাবে গণধর্ষণ করে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাকে সেখানে আটকে রেখে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং শেষে তার সাথে থাকা সমস্ত গয়না ও টাকা লুট করে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
কোনোক্রমে বাড়ি ফিরে এসে নির্যাতিতা কিশোরী তার পরিবারের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে।
প্রধান অভিযুক্ত তিতু পালসহ তার দুই সহযোগীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অপরাধে জড়িত এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছে।
রিতেশ নামে চতুর্থ অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, লুটের মালামাল তার কাছেই রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে।
বিজনোর পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী তিতু পাল অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ওই পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, কারণ সে জানত কিশোরীর বাবা বিদেশে থাকেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসা ও মানসিক কাউন্সিলিং প্রদান করা হচ্ছে এবং তার বাবা সউদী আরব থেকে দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।