ভারতের আসামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। টানা ৩৭ বছর নিষ্ঠার সাথে পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করার পর অবসরপ্রাপ্ত এক বাঙালি মুসলিম পুলিশ সদস্য আবিষ্কার করেছেন যে, ভোটার তালিকায় তার কোনো নাম নেই। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জীবনের সিংহভাগ ব্যয় করার পর এমন ঘটনায় হতবাক ওই ব্যক্তি ও তার পরিবার।
মাকতুব মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পুলিশ সদস্য তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, দেশের সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তিনি তার জীবনের সেরা সময়গুলো দিয়েছেন। কিন্তু আজ নিজেরই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ায় তিনি চরম অপমানিত ও আশাহত বোধ করছেন।
ভুক্তভোগী এই ব্যক্তির দাবি, তিনি যথাযথ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তার মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাটি আসামে বসবাসরত বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে চলমান সংকটের মাঝে একজন প্রাক্তন সরকারি চাকুরিজীবীর সাথে এমন আচরণ ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে বাদ দেওয়ার এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে হাজার হাজার প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।