বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মৌসুম শেষ হওয়া, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে অধিকাংশ সবজি কেজি প্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার চৌমুহনী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা এবং বেগুন মানভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙ্গা, করলা, শসা ও বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে মূলা, টমেটো ও ঢেঁড়স কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে ভালো মানের পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৩০ টাকা, পাকিস্তানি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বাজারে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বেশিরভাগ পণ্যই ১০০ টাকার ঘরে। মুরগির দামও বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা।
সবজি বিক্রেতা সালাম মিয়া জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়েছে।
সিও অফিস কাঁচা বাজারের আড়ৎদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ছে, যার ফলে দাম বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।