দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ খাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে এলপি গ্যাস, জ্বালানি তেল এবং খাদ্যপণ্যের লাগামহীন দামের প্রভাবে ব্যবসায়ীরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন।
নির্বাচনের আগের সময় থেকে এলপি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেখানে আগে ১ হাজার ২০০ টাকায় গ্যাস পাওয়া যেত, সেখানে তা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। পরবর্তীতে নতুন সরকার গঠনের পর কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও বর্তমানে গ্যাসের দাম প্রায় ২ হাজার টাকার আশেপাশে রয়েছে। তবে বাজারে সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দামও ব্যাপক হারে বেড়েছে- পোলাও চাল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা কেজি। বাসমতি চাল ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮২০-৮৫০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া সোনালি মুরগির দাম খুচরা বাজারে ৪৫০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। তেল, চিনি, কিসমিসসহ প্রায় সব উপকরণের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শুধু আলু ও পেঁয়াজ; অন্যদিকে বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে নেই।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার কারণে রেস্তোরা ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সাইনবোর্ড ও লাইট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তেলের সংকটের কারণে যানবাহন কমে যাওয়ায় ক্রেতা উপস্থিতিও কমেছে। ফলে বিক্রি ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। তখন ভাড়া, স্টাফ বেতন ও ভ্যাট-ট্যাক্সে কিছুটা ছাড় ছিল। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রকার প্রণোদনা বা ছাড় নেই। উপরন্তু, বিক্রি কমে যাওয়ার পরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে করের চাপ বাড়ানো হয়েছে, যা ব্যবসাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা পুরো একটি গ্রিল মুরগি কিনতেন, এখন সেটিকে ৮ টুকরো করে বিক্রি করতে হচ্ছে। দুইজনের জন্য দুটি বিরিয়ানি কেনার পরিবর্তে এখন একটি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকছেন।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রথম যুগ্ম মহাসচিব ও আল-কাদেরিয়া রেস্তোরাঁর চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ আলম সুমন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এখনো খাবারের দাম বাড়াইনি, কারণ এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন চালানো সম্ভব নয়।’
‘এই খাতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এলপি গ্যাস ও ডিজেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং করের চাপ কমানোর’ দাবি জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবেন বলেও জানান তিনি।