যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের এক মাস পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় বুধবার (০৮ এপ্রিল) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, ইরান বিশ্ব অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি নৌপথ খুলে না দেয় তবে আজ রাতেই ‘একটি আস্ত সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে’। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি সুর নরম করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় তিনি দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে সেই দেশের পণ্যে তাৎক্ষণিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে ওয়াশিংটন।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানি সেনাবাহিনীর হাতে।
তেহরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল একটি ১০ দফা দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের হিমায়িত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান এবার স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন দিলেও একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে লেবানন নিয়ে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।
ফলস্বরূপ, বুধবার সকালেও দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আশা প্রকাশ করে জানান, এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। হোয়াইট হাউস আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করলেও সবকিছু এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা কমেনি। বুধবার সকালেই কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৮টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এই সাময়িক স্বস্তি প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি