সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের নিষিদ্ধ ঘোষিত অভয়ারণ্য এলাকায় ঢুকে মধু সংগ্রহ ও মাছ শিকারের অভিযোগে সাতজন মৌয়ালকে আটক করেছে বন বিভাগ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রেঞ্জের নোটাবেকী অভয়ারণ্য এলাকার রায়মঙ্গল নদী থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামের মাজেদ গাজী (৬১), হযরত আলী গাজী (৫০), মাকছুদুল গাজী (৫৭), মুকুল হোসেন (৪৫), আব্দুল মান্নান (৫০), ওমর ফারুক (৩৬) ও আসাদুল ইসলাম (৫২)। বন আইনে মামলা দিয়ে তাদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্মার্ট পেট্রোল টিম ও নোটাবেকী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনপ্রহরীরা যৌথ অভিযান চালান। এ সময় একটি নৌকাসহ ওই সাতজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
নোটাবেকী অভয়ারণ্যের বনপ্রহরী আহসান হাবীব বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই মৌয়ালরা অভয়ারণ্যে ঢুকে মধু সংগ্রহ ও মাছ শিকার করছিলেন। হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়েছে।
তবে আটক মৌয়াল হযরত আলী গাজীর দাবি, তারা বৈধ পাস (অনুমতিপত্র) নিয়েই ১ এপ্রিল বনে ঢুকেছিলেন। মধু সংগ্রহের একপর্যায়ে পথ ভুলে তারা অভয়ারণ্য এলাকায় ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে কোনো মধু সংগ্রহ বা মাছ শিকার করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য ‘অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সাধারণের প্রবেশ এবং মধু বা মাছ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।