অবশেষে দীর্ঘ ১৭ দিনের উৎকণ্ঠা, কান্না আর নির্ঘুম রাতের অবসান। ঈদের দিন থেকে নিখোঁজ হওয়া জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭ বছরের শিশু সাজিদকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে থেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।
আজ ৬ এপ্রিল বিকালে ঢাকা রেলওয়ে থানায় করা ২৮১ নম্বর সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানের মুখ দেখে আবেগে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা আনন্দ আর অশ্রুতে ভরে ওঠে সেই মুহূর্ত।
সাজিদ জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার দুরমুট এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলমাস ইসলামের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন নতুন জামা পরে ফুটবল নিয়ে খেলতে বের হয় সে। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা গ্রামজুড়ে খোঁজাখুঁজি, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে অনুসন্ধান, এমনকি বিভিন্ন কবিরাজ ও ফকিরের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সন্ধান পাননি। দিন যত গড়িয়েছে, ততই ম্লান হয়েছে ফিরে পাওয়ার আশা কিন্তু থামেনি প্রার্থনা।
অন্যদিকে, গত ২০ এপ্রিল রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে রেলওয়ে থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরিচয় জানাতে না পারায় ৯৫৩ নম্বর জিডির মাধ্যমে তাকে লিডোর ট্রানজিশনাল শেল্টার ‘সেতুবন্ধন’-এ পাঠানো হয়। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে লিডোর সমাজকর্মীরা শুরু করেন তার পরিবারের সন্ধান।
লিডোর কমলাপুর শাখার সোশ্যাল মোবিলাইজার মাসুদ মাহাতাব বলেন,
“আমরা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করি। পথশিশু এবং হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেই,অনাথ ও এতিম শিশুদের পুনর্বাসন এবং শিশু অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
গত ১৬ দিনের নিরলস অনুসন্ধান ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশেষে মেলান্দহ থানার মাধ্যমে সাজিদের পরিবারের সন্ধান মেলে। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন তার স্বজনরা।
সাজিদের পরিবার জানান ,
“লিডো থেকে ফোন পাওয়ার পর মনে হলো আমরা যেন নতুন করে শ্বাস নিতে পারছি। এতদিন পর আমাদের সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষাহীন। আল্লাহর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, লিডো ২০০০ সাল থেকে পথশিশুদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের উদ্ধার, পরিবারে পুনর্মিলন, পথশালা ও মোবাইল স্কুল পরিচালনা এবং দরিদ্র পরিবারকে সহায়তার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গঠনে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।