চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর এই পাণ্ডুলিপিটি মূলত ২৩টি ফোলিও বা পাতায় বিন্যস্ত। ১৭ বাই ২২ সেন্টিমিটার আকারের এই পাণ্ডুলিপিটি ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। যদিও এর মূল বয়ান অত্যন্ত স্বচ্ছ ‘আন্দালুসিয়ান’ লিপিতে লেখা, তবে প্রতিটি সূরার নাম খোদাই করা হয়েছে প্রাচীন ‘কুফিক’ লিপিতে। কুরআনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অপ্রকাশিত এই কাজটি গবেষকদের কাছে এক বিশাল বিস্ময়।
কিং আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি কেবল এই একটি পাণ্ডুলিপিই নয়, বরং কোরআনের ব্যাখ্যা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের এক বিশাল সংগ্রহশালা। লাইব্রেরিটির সংগ্রহে থাকা আরও কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
ইরাব আল-কুরআন ওয়া মা’আনিহি: ৫ম হিজরি শতাব্দীতে আবু ইসহাক আল-জাজ্জাজ কর্তৃক রচিত।তাউয়িল মুশকিল আল-কুরআন: ৭ম হিজরি শতাব্দীতে ইবনে কুতায়বাহ আল-দিনাওয়ারির একটি অনুলিপি।
তাফসীর আল-তাবারী: ৬ষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর ৭৭ পাতার একটি দুর্লভ অনুলিপি।মা’আনি আল-কুরআন ওয়া তাফসিরিহি: আবু বকর মুহাম্মদ আল-নাক্কাস রচিত ৭ম হিজরি শতাব্দীর ১১৩ পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ
লাইব্রেরিটির হেরিটেজ আর্কাইভে বর্তমানে ১৮৫টিরও বেশি বিরল তাফসির পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এছাড়া ব্যাকরণ, ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং আয়াত ব্যাখ্যার ওপর রয়েছে শত শত অন্যান্য পাণ্ডুলিপি। পুরো সংগ্রহকে মূলত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. তাফসির (ব্যাখ্যা) ২. কিরাত ও তাজবিদ ৩. কুরআনিক বিজ্ঞান ৪. মূল কুরআনের পাণ্ডুলিপি (মুসহাফ)
এছাড়া এখানে আহমেদ ইবনে আজিবার ‘আল-বাহর আল-মাদিদ’, আল-বাগাউয়ির ‘মা’আলিম আল-তানজিল’ এবং বিখ্যাত ‘তাফসীরে জালালাইন’-এর মতো কালজয়ী কাজের পাণ্ডুলিপিও সংরক্ষিত আছে।
গবেষণার নতুন দিগন্ত
কিং আব্দুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো— তাদের সংগ্রহে থাকা বিরল পাণ্ডুলিপি, নথিপত্র, পুরনো ছবি এবং মুদ্রা প্রদর্শনের মাধ্যমে মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে বর্তমান প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করা। এই সংগ্রহগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং পদ্ধতিগত একাডেমিক গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চায় সউদী আরব।
ইতিহাসের ধূলিকণা মাখা এই পাতাগুলো এখন কথা বলছে সময়ের, ঐতিহ্যের এবং বিশ্বস্ততার; যা গবেষকদের জন্য নতুন কোনো গবেষণার খোরাক জোগাবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।