বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে পাকিস্তানে। ইরানকে ঘিরে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার জেরে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় দেশটিতে হঠাৎ করেই জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ইসলামাবাদে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আগামী ৩০ দিনের জন্য শহরের সব ধরনের গণপরিবহনে ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত শনিবার থেকে কার্যকর হবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় বহন করবে, যাতে নাগরিকদের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন। এতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। নতুন দরে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপিতে, আর ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে, গণপরিবহন ভাড়া সাময়িকভাবে ফ্রি করে দিয়ে জনগণের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।