সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গতকাল বুধবার বেশ কয়েকটি দেশ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
ক্রোয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তে শুনিয়ার জানিয়েছেন, সরকার তাদের কৌশলগত তেল ও তেলজাত পণ্যের মজুত থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিমাণ জ্বালানি তাদের মোট মজুদের প্রায় ৫ শতাংশ এবং এটি ক্রোয়েশিয়ার চার দিনের জ্বালানি ব্যবহারের সমতুল্য।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ঘোষণা করেছে যে, জ্বালানি সাশ্রয়ে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে যানবাহনের ক্ষেত্রে ‘জোড়-বিজোড় লাইসেন্স প্লেট’ নীতি চালু করা হবে। এছাড়া, ২ এপ্রিল থেকে অপরিশোধিত তেলের নিরাপত্তা সংকট সতর্কতা স্তর ২ থেকে ৩-এ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট সতর্কতা স্তর ১ থেকে ২-এ উন্নীত করা হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে মালয়েশিয়ার সব সরকারি বিভাগ, সংস্থা এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্পূর্ণরূপে ‘বাড়ি থেকে কাজ’ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম নীতি চালু করা হবে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক টেলিভিশন ভাষণে সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নেতিবাচক প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তিনি জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয় করা, যথাসম্ভব গণপরিবহন ব্যবহার করা এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।