ইসরায়েলকে পাশে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মজার বিষয় হলো, এ যুদ্ধে তিনি একজন ইউরোপীয় মিত্রকেও সক্রিয় ভূমিকায় পাননি। হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করার জন্য যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের কাছে সাহায্য চেয়েও নিরাশ হতে হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টকে।
এ নিয়ে ইউরোপীয় সামরিক জোট ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ ও রসিকতাচ্ছলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। বুধবার (১ এপ্রিল) একটি ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন যে, মাখোঁ তার স্ত্রীর হাতে ‘শারীরিক লাঞ্ছনার’ শিকার হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজের ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে ভিয়েতনাম সফরের সময় একটি ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে ট্রাম্প বলেন, আমি মাখোঁকে ডেকেছিলাম, যার স্ত্রী তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাখোঁর চোয়ালে তার স্ত্রীর আঘাতের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। যদিও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এর আগে বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
ট্রাম্প এরপর আরও বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘ইমানুয়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছুটা সহায়তা পেলে আমাদের ভালো লাগবে। যদিও ইতোমধ্যে আমরা খারাপ মানুষদের নির্মূল করা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অকেজো করার নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছি। তা সত্ত্বেও, কিছুটা সহায়তা পেতে ভালোই লাগবে। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে অনুগ্রহ করে শিগগির জাহাজ পাঠান।’
তারপর তিনি মাখোঁর কণ্ঠ অনুকরণ করে ফরাসি উচ্চারণে ইংরেজি বলতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘না না না, আমরা সেটা পারব না। যুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরেই কেবল সেটা সম্ভব।’
এরপর আবার নিজের স্বাভাবিক কণ্ঠে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বললাম, না না। যুদ্ধে জেতার পর আর সেটার প্রয়োজন পড়বে না, ইমানুয়েল।’
এর পর ন্যাটোর সমালোচনা শুরু করেন ট্রাম্প। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ন্যাটোর সমালোচনায় মেতেছেন ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।