মিত্র দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধে সমর্থন দিতে অস্বীকার করার পর ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এই বিষয়টি তিনি ‘জোরালোভাবে বিবেচনা করছেন’। ট্রাম্প ন্যাটো জোটকে ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
বুধবার (০১ এপ্রিল) দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। যুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানাতে এ দিন রাত ৯টায় (ইএসটি) জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তার কয়েক ঘণ্টা আগে এই মন্তব্যটি এসেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ৭৭ বছরের পুরোনো ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যুদ্ধের পর ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে। আমি ন্যাটোর দ্বারা কখনোই প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময়ই জানতাম যে তারা একটি কাগজের বাঘ, এবং প্রসঙ্গত, পুতিনও তা জানেন।’
ট্রাম্প বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্য করে কথা বলেছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িত হতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের তিরস্কার করেছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রয়্যাল নেভি এই যুদ্ধে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম নয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অনেক পুরোনো, এবং আপনার যে বিমানবাহী রণতরী ছিল, সেগুলোও অচল।’
এ সময় স্টারমারের প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়ানো উচিত কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে কী করতে হবে তা বলব না। সে যা খুশি করতে পারে, তাতে কিছু যায় আসে না। স্টারমার শুধু ব্যয়বহুল বিমানবাহিনী চায়, যা আপনাদের জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া করে দিচ্ছে।’
এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একটি বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটো অংশীদাররা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সাহায্য করতে অনিচ্ছুক, কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়।