মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে কাজ করছে ইসলামাবাদ।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তারই অংশ হিসেবে রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনের আলোচনায় বসেছেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রথম দিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি।
ইতিমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে। ইরানও তার অবস্থান তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাতে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বেশ দ্রুতই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখল করার হুমকি দিলেও পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি তেলের ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এ অতিরিক্ত ট্যাংকার চলাচলের অনুমোদন দিয়েছেন।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে কি না, যা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনো প্রায় ৩,০০০ লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে। আমরা ১৩,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে বোমা মেরেছি এবং আরও কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। তবে একটি চুক্তি বেশ দ্রুতই হতে পারে।’