বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

তেল আবিবের আকাশে হঠাৎ হাজার হাজার কাক, পতনের রহস্য?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

সম্প্রতি তেল আবিবের আকাশে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেছে। হাজার হাজার কাক শহরের আকাশসীমা ঢেকে দিয়ে সৃষ্টি করেছে এক ধরনের অন্ধকার। একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা এই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে, যা দর্শকদের একই সঙ্গে মুগ্ধ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

বিশাল এই ঝাঁকটিকে বিখ্যাত আজরিয়েলি টাওয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কাকদের ঘন এই ঘূর্ণায়মান বিন্যাস কিছু সময়ের জন্য দিনের আলোও ম্লান করে দেয়। অনলাইনে এ নিয়ে অনেকে এটিকে রহস্যময় ও অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

কেউ কেউ আবার এটিকে বুক অব রেভেলেশনের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে পাখিদের সমাবেশকে প্রতীকী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে- কেউ এটিকে ‘অশুভ পূর্বাভাস’ বলেছেন, আবার কেউ প্রাচীন বিশ্বাসের সঙ্গে মিল খুঁজেছেন, যেখানে পাখির অস্বাভাবিক আচরণকে বিপর্যয়ের লক্ষণ হিসেবে ধরা হতো।

ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যাখ্যা নতুন নয়। প্রাচীন রোমে পুরোহিতরা পাখির গতিবিধি দেখে ভবিষ্যৎ অনুমান করতেন। একইভাবে টাওয়ার অব লন্ডনের কাকদের ঘিরেও একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি রয়েছে- যদি তারা কখনো দুর্গ ত্যাগ করে, তবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের পতন ঘটবে বলে বিশ্বাস করা হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা এসব অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি ঘটনা। ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পাখি পরিযান পথের ওপর অবস্থিত, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি পাখি যাতায়াত করে।

বিশেষ করে হুডেড কাক বসন্তকালে খাদ্যের প্রাপ্যতা, বাসা বাঁধা এবং পরিবেশগত কারণে বড় দলে একত্রিত হয়। মার্চ মাসে এমন বড় আকারের ঝাঁক দেখা অস্বাভাবিক নয় এবং অতীতেও এর নজির রয়েছে।

পাখিবিজ্ঞানীরা আরও জানান, শহুরে পরিবেশের পরিবর্তন বা আবাসস্থলের চাপও এ ধরনের আচরণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে আকাশে এই ঘূর্ণায়মান নকশার সৃষ্টি হয়।

যদিও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা স্পষ্ট, তবুও ঘটনার সময়কাল জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এই দৃশ্যকে ভিন্নভাবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বা ভ্রান্তভাবে ব্যাখ্যা না করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত। ভাইরাল ভিডিওগুলো যতই নাটকীয় হোক না কেন, এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটি অংশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102