দীর্ঘদিন ধরেই চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। এমনকি তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি বেইজিং। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আমেরিকার ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে শিরোনামে উঠেছে চিন-তাইওয়ান ইস্যু। এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি যুদ্ধের বদলে ধীরে চাপ সৃষ্টি করার এক বিশেষ কৌশল প্রয়োগের কথা উঠে এসেছে, যার নাম ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’।
অ্যানাকোন্ডা সাপ যেমন তার শিকারকে এক আঘাতে মারে না, বরং ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে ফেলে তেমনই ভূরাজনীতিতে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ একত্রে প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেওয়াকেই ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের লক্ষ্য তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া, অর্থনৈতিক শক্তি ক্ষয় করা এবং প্রতিরোধকে অকার্যকর করে তোলা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দখল সহজ হয়।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে নিয়মিত তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চিনা বাহিনী। আকাশসীমা ও সমুদ্রপথে তাদের উপস্থিতি ক্রমশ ‘নিউ নর্মাল’ হয়ে উঠছে, যা মানসিক চাপ তৈরির বড় হাতিয়ার।
এর পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুয়ো খবর ছড়ানো, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি এবং অর্থনৈতিক চাপ- সব মিলিয়ে বহুমুখী কৌশল প্রয়োগ করছে বেজিং।
বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর তাইওয়ানের নির্ভরতা চিনের কাছে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে শি জিনপিং প্রশাসনের ধীরগতির কৌশল তাৎক্ষণিক যুদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন, ইন্ডিয়া