নির্বাচনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের উপস্থিতিতে তার সমর্থকদের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা শহরের থানার সামনে রাশেদ খাঁনের নির্বাচনি কার্যালয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খাঁন থানার সামনে তার কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা করছিলেন। নির্বাচনে সন্তোষজনক ভোট না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এত টাকা দেওয়ার পরও কেন ধানের শীষ প্রতীক কম ভোট পেল—তা জানতে চান তিনি। তখন এক কর্মী বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের হাতে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তারা সবাই টাকা নিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। বক্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বক্তারা বলেন, তারা সবাই দাঁড়িপাল্লার টাকা খেয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন; এ কারণেই ধানের শীষ প্রতীক কম ভোট পেয়েছে।
এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অফিসে পাহারারত ডিউটি পুলিশের উপস্থিতিতেই সমর্থকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে এক পক্ষের ধাওয়ায় অন্য পক্ষ থানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেখানেও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাধা দিতে গেলে পুলিশও হামলার শিকার হয়। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। সহকারী উপপরিদর্শক জাহিদ হোসেন, কনস্টেবল পিপলু মিয়া ও সেলিম রেজাসহ আহত পুলিশ সদস্যরা কালীগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লার হোসেন বলেন, দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তারা থানার ভেতরে প্রবেশ করে। সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশের চার কনস্টেবল আহত হন। ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা রাশেদ খাঁন। নির্বাচনের ফলাফলে তিনি তৃতীয় হন। এ আসনে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালিব।
সংঘর্ষের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, সকালে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হঠাৎ বিরোধের সৃষ্টি হয়। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি নিশ্চিত নন।