উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানের অসংখ্য সশস্ত্র গোষ্টি মিলে ২০০৭ সালে পাকিস্তান তেহরিক ই তালিবান তথা টিটিপি গঠন করে। প্রতিষ্ঠার পরপরই সংগঠনটি মার্কেট, মসজিদ, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি ও পুলিশ স্টেশনসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেন। পাশাপাশি এসব হামলা চালিয়ে টিটিপি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
তালেবানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আফগানিস্তনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিটিপি। মতাদর্শ, সামাজিক ও ভাষাগত মিল থাকলেও টিটিপি ও আফগানিস্তানের তালেবান দুটি আলাদা সংগঠন।
পাকিস্তানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তালেবান আফগান ভূখণ্ডে টিটিপিকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
এদিকে ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর টিটিপি আরও শক্তিশালী হয়। পরে তালেবান সরকার পাকিস্তান ও টিটিপির মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করে। এর মাধ্যমে একটি স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয় এবং টিটিপির বন্দিরা পাকিস্তান থেকে মুক্তি পান। তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর টিটিপি আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বাড়িয়ে দেয়।
টিটিপির মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই উদ্দেশ্যে টিটিপি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রায়ই হামলা চালায়।
চাঁদা, অপহরণ, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও অনুদানের মাধ্যমে টিটিপি তাদের অর্থ সংগ্রহ করে। সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে টিটিপি আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের পশতুন উপজাতিদের টার্গেট করে, তবে তারা পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও সদস্য আকর্ষণ করে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও তারা সদস্য সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে।
২০২১ সালের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর টিটিপি বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে হামলা বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টিটিপির হামলার সংখ্যা বেড়েছে। নুর ওয়ালি মেহসুদের নেতৃত্বে টিটিপি ইসলামাবাদ, করাচি ও কোয়েটার মতো বড় শহরগুলোতেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে।