রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

দুর্নীতির মামলায় খালাস পেলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একই মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন দিল্লির সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ের নিম্ন আদালত তাদেরকে সহ মামলার ২৩ আসামির প্রত্যেককেই মুক্তি দিয়েছেন।

সিবিআই অবশ্য জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবে।

সংস্থাটির অভিযোগ, এই দুর্নীতির মূল হোতা ছিলেন কেজরিওয়াল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় বিচারক বলেন, তদন্তকারী সংস্থার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব স্ববিরোধিতায় ভরা। মামলায় অভিযোগের পক্ষে তথ্য–প্রমাণ দাখিল করতে না পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে মানুষের আস্থা টলে যায়।

রায় শোনার পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কেজরিওয়াল কেঁদে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নাম করে তিনি বলেন, স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের রচয়িতা তারা। আম আদমি পার্টিকে শেষ করে দিতে তারা দলের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে জেলে পুরেছেন। ভুয়া মামলায় একজন মুখ্যমন্ত্রীকে তার বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে জেলে ঢোকানো হয়েছে।

কেজরিওয়াল বলেন, ‘স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন কখনো হয়নি। সারাক্ষণ আমাদের ওপর নোংরা ছিটানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা টিভিতে বলা হয়েছে, আমরা ভ্রষ্ট। আজ আদালত জানিয়ে দিলেন, আমরা কেউ ভ্রষ্ট নই।’

আম আদমি পার্টির আরেক নেতা সিসোদিয়া বলেন, সত্যের জয় হলো।

কংগ্রেসকে হটিয়ে ২০১৩ সালে প্রথমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারপর ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি টানা দিল্লি শাসন করেছেন। ২০২৩ সালে কেজরিওয়াল, সিসোদিয়াসহ আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন শুরু করে বিজেপি।

বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালে রাজ্য সরকার নতুন যে আবগারি নীতি চালু করে, এর ফলে সরকার পরিচালিত মদের দোকান তুলে দিয়ে বেসরকারিভাবে মদ বিক্রি শুরু হয়, তাতে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, নতুন নীতিতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও কালোবাজারি বন্ধ হবে। কিন্তু নীতি চালু করার আট মাস পর ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’ থাকার কারণে সরকার তা প্রত্যাহার করে নেয়। বিজেপির অভিযোগ, নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।

মনীশ সিসোদিয়া সেই সময় ছিলেন আবগারিমন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে ইডি ও সিবিআই তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয় সিসোদিয়াকে। দেড় বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ঠিক আগে মার্চে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কেজরিওয়ালকে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই কেজরিওয়াল কারাগারে যান এবং কারাগার থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে থাকেন তিনি। লোকসভার ভোটে প্রচারের জন্য তাকে ২০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে হেরে তারপর আবার তাকে ফিরে যেতে হয় তিহার জেলে। পাঁচ মাস কারাবাসের পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিন দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102