নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ফুটবলের আঘাতে এক গর্ভবতী মায়ের পেটের বাচ্চা নষ্ট ও এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ওই গর্ভবতী মা ফুটবলের আঘাতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ২০ ফেব্রুয়ারি বিকালে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষের অভিযুক্ত লোকজন।
নলডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। হামলার শিকাররা হলেন মনজুর আলম (৪৫), তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৮), অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ জেবা রায়সা (২০)।
অপরদিকে অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মৃত আ. আজিজ সরদারের ছেলে মো. বাবলু সরদার (৫০), মৃত ফজেল সরদারের ছেলে মো. রহিম সরদার (৭২), মৃত শুকুর আলী সরদারের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন সরদার (৪৫), মৃত গফুর সরদারের ছেলে মো. সুলতান সরদার (৪৫) ও মোশাররফ সরদারের ছেলে মো. হোসেন সরদার (২৫)। নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার দুর্লভপুর এলাকার একটি খেলার মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। এ সময় বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া ফুটবলের আঘাতে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেবার পাঁজরে বলের আঘাত লাগে। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তার পেটের বাচ্চা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি বিকালে ফুটবল খেলার সময় পুনরায় জেবার শাশুড়ির গায়ে বল লাগে। এতে প্রতিবাদ করায় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কিল, ঘুষি, লাথি মারে।
এ ঘটনার পর থেকে দুর্লভপুর ও বিরকুৎসা রেলস্টেশন সংলগ্ন লাহেরীপাড়া মাঠ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। সাধারণ গ্রামবাসী এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
আহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের সন্তান মারা গেল, তার বিচার না পেয়ে উল্টো প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপরই হামলা চালানো হলো। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু সরদার ও রহিম সরদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন মন্টু জানান, বলের আঘাতে এক গর্ভবতী মায়ের পেটের বাচ্চা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের কাছে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।
নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরে আলম জানান, বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ এখনও হাতে পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।