দ্বীপ জেলা ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, জেলার চারটি আসনেই বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে ভোলা-১ (সদর) আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে চমক সৃষ্টি করেছেন।
এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে ভোটের চিত্র ছিল অনেকটা একতরফা। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইও লক্ষ্য করা গেছে। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস ও মিছিল করতে দেখা যায়।
ভোলা-১ (সদর)
ভোলা-১ (সদর) আসনে ১১৪টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। গরুর গাড়ি প্রতীকের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন ১,০৪,৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩,৭৭৩ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের ওবায়েদ বিন মোস্তফা পেয়েছেন ২৫,০৯১ ভোট। ৩০,৬৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন পার্থ।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন)
ভোলা-২ আসনে তুলনামূলক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ধানের শীষ প্রতীকের আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন ১,২১,০০৫ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুফতি ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩,৪৯৮ ভোট। ২৭,৫০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান হাফিজ ইব্রাহিম।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন)
ভোলা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) পেয়েছেন ১,৫১,৭৭৪ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের নিজামুল হক নাঈম পেয়েছেন ৫৫,৬৬০ ভোট। ৯৬,১১৪ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন তিনি, যা কার্যত একতরফা ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা)
ভোলা-৪ আসনের ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ১,৯০,০০৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২,৩৯৮ ভোট। ১,০৭,৬০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন নয়ন, যা জেলার সর্বোচ্চ ব্যবধান।
সার্বিকভাবে জেলার চারটি আসনেই বিএনপি জোটের একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি আসনে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ জয় এবং সদর আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকের চমকপ্রদ সাফল্য এবারের নির্বাচনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।