বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে মাঠের বাইরে বিতর্কের শেষ নেই। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে পরিচালনা—সবখানেই প্রশ্ন উঠছে। তবে একটি জায়গায় বিসিবি বরাবরই শক্ত অবস্থানে থাকে। তা হলো অর্থনৈতিক সক্ষমতা।
বিসিবির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মাসে বিসিবির আয় কম হলেও ৪৫–৫০ কোটি টাকার নিচে নামার সুযোগ নেই। তাহলে এই টাকা আসে কোথা থেকে?
চলুন জেনে নিই।
বিসিবির আয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আইসিসি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নতুন রেভিনিউ শেয়ারিং কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ পায় প্রায় ৪.৪৬ শতাংশ শেয়ার। শতাংশ হিসেবে মাসে বাংলাদেশ আইসিসি থেকে পাচ্ছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা এবং বার্ষিক ৩০০ কোটি টাকা।
এই মোটা অঙ্কের আয় আসে বিশ্বকাপ, আইসিসি ইভেন্ট, টিভি ও ডিজিটাল রাইটস মিলিয়ে ।
এ ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নগদ অর্থ থেকে আসে মোটা অঙ্কের আয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিসিবি জানায় তাদের কোষাগারে রয়েছে ১৩৯৮ কোটি টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিসিবি কর্মতর্তা জানান, এই অর্থ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও এফডিআরে জমা রয়েছে। সেই টাকা থেকে মাসে ৮ কোটি টাকার মতো আসে।
অর্থাৎ কোনো সিরিজ না থাকলেও কোনো ম্যাচ না খেললেও—শুধু এফডিআর থেকেই প্রতি মাসে দুই অঙ্কের কোটি টাকা ঢোকে বিসিবির ঘরে।
জানা যায়, বাংলাদেশের ঘরের মাঠে হওয়া সব আন্তর্জাতিক ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে বিসিবি বার্ষিক ৮০ কোটিরও বেশি আয় করে। সে হিসেব অনুযায়ী মাসে প্রায় ৭ কোটি টাকা পায় বিসিবি। পাশাপাশি ঘরের মাঠে বড় দল এলে বা জনপ্রিয় সিরিজ হলে এই অঙ্ক আরও বাড়ে।
জাতীয় দলের জার্সি স্পন্সর, সিরিজ স্পন্সর, অফিসিয়াল পার্টনার—সব মিলিয়ে বিসিবির বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোও উল্লেখযোগ্য। এইসব থেকেও বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ কোটি টাকার মতো। সে হিসেবে মাসে আসে ৬ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি কর্পোরেট ইভেন্টসহ অন্যান্য খাত থেকেও মাসে ২ কোটির টাকারও বেশি পায় বিসিবি। সব মলিয়ে গড়ে বিসিবির মাসিক আয় প্রায় ৪৫ কোটিরও বেশি। এবং বার্ষিক আয় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা।
তবে এই আয়ের খাতে মাঝেমধ্যে কিছুটা কমতেও পারে, কিন্তু আয়ের অংঙ্ক কমলেও বার্ষিক আয় ৫০০ কোটির নিচে নামে না বলেও জানা যায় বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রে।
উল্লেখ্য, বিসিবির সব আয়ই কিন্তু বার্ষিক হিসেবে কোষাগারে জমা হয়।