নির্বাচনি পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচনি পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এ সময় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা ও মো. আলতাফ হোসাইন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ’২৪-এর আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্ত। কিন্তু যারা পুরোনো রাজনীতি ধারণ করে, তারা পুরাতন ব্যবস্থাকেই আঁকড়ে ধরে নতুনদের বেড়ে ওঠা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বললেই চলে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। মামলা-বাণিজ্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংখ্যালঘুরাও মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। নিজেরা মামলা দিয়ে আবার নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে মামলা প্রত্যাহারের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে জনগণ যাতে নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ নির্বাচন কমশনকে নিশ্চিত করতে হবে।
বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র কেনাবেচা চলছে, ভোটকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীদের জামিন করানো হচ্ছে, যা একটি ভয়াবহ অশনিসংকেত। তিনি উল্লেখ করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ে ‘না’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন চললেও কেন্দ্রীয়ভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলকেই স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছিল, অল্প সময়ের ব্যবধানে সেগুলো ভুলে গিয়ে কেউ কেউ জুলাই সনদ মানবে না বলে বক্তব্য দিচ্ছে, যা দুঃখজনক। প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আগ্রহী হলেও কোথাও থেকে নির্দেশনার অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্ট্রাইকিং ফোর্সের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়, নির্বাচনি সন্ত্রাসে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন করা হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনাকে তিনি লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আমরা পুরোনো তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে নতুন রাজনীতির কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু চরিত্রহনন ও পুরোনো ট্যাগের রাজনীতি নতুন প্রজন্ম গ্রহণ করছে না।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। অস্ত্রবাজ ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করুন, এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে অস্ত্র উদ্ধার করেছিল, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করেনি
শেরপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চেয়ে নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আসন্ন নির্বাচনকে আনন্দময় ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখতে চাই।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাবেক সিইসি, আইজিপি ও সচিবদের কারাবরণের ঘটনা মনে রাখতে হবে, জুলাইই শেষ বিপ্লব নয়, তরুণ প্রজন্ম এখনো জাগ্রত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবু হেলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু এবং সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।