ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশের সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ রোববার (০১ ফেব্রিয়ারি এ ঘোষণা দেন।
ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ইউরোপীয় সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এই ঘোষণা আসে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানের জন্য আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
কালিবাফ বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের জন্য আত্মঘাতী। তার ভাষায়, ‘যে বাহিনী ইউরোপে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো রোধে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল, সেই গার্ডকে আঘাত করে ইউরোপীয়রা নিজেদের পায়েই গুলি করেছে। তারা আবারও আমেরিকার অন্ধ অনুসরণ করে নিজেদের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ঘোষণা মূলত প্রতীকী। এর আগেও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পর ইরান একটি আইনের আওতায় অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার কথা ভাবছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে রোববার ও সোমবার সরাসরি সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়।
ঘোষণার সময় সংসদে কালিবাফসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের অনেককে বিপ্লবী গার্ডের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। আইআরজিসি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের ব্যাপক প্রভাব আছে। এই বাহিনী সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি দায়বদ্ধ।
অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।