নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তবে এরকম কোনো কমিটি জামায়াতের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে না বলে স্পষ্টভাবে না করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি। শান্তি কমিটি যেন না গঠন করা হয় সে বিষয়ে সিইসিকে পরামর্শ দিয়েছেন দলটির নেতারা।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এটাও জানতে পেরেছি যে নির্বাচনে দিন বা নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে একটা করে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে আলোচনা শুনেছি। শান্তি কমিটি সম্প্রদায় আমাদের কাছে খুব অপ্রিয়, যদিও আমরা শান্তিবাদী মানুষ।
নির্বাচন কমিশন বলেছেন, এ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নাই। তারা এই ধরনের কোনো কমিটি করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্কাউটদের এখানে যুক্ত করা হবে। আমরা মনে করি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বলে আইনে যাদের কথা উল্লেখ আছে তাদেরকেই নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। তারা (ইসি) আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং এ ব্যাপারে তারা আলোচনা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কমিশনকে বলেছি নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী তাদের নির্বাচনি এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনি এলাকায় কাজ করছে। আইনে এটার কোনো বাধা নাই, করতে পারে। তবে তারা যেহেতু সেই এলাকায় স্থানীয় না সবাই তাদের চেনে না। অতএব তারা যেন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের দুইদিন আগে সে এলাকা থেকে চলে যায়। তারা যেন না থাকে সেখানে। সেখান থেকে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ না দেয় সেজন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।
তবে বিএনপির এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া দাবি বলে দাবি করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, একটি বিশেষ দল ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামীলীগের পথে হাঁটছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা কোথাও বলা হয় নি যে কোথাও কোনো শান্তি কমিটি গঠন হচ্ছে।এটা সম্পূর্ণ প্রপাগাণ্ডা।
তিনি বলেন, ইসিতে বিএনপির এই অভিযোগকে আমি শিশুসুলভ আচরণ বলবো। ইসির পক্ষ থেকেও আমাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো এ ব্যাপারে। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি জামায়াত এমন কোনো কথা কোথাও বলে নি। বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি। যদি কেউ শুনে থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হোক। কারো মনগড়া বক্তব্য এক্ষেত্রে মেনে নেয়া হবে না।