আমাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষই সমান। সে মহিলা হোক আর পুরুষ। জামায়াতে ইসলামীর লোকজন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করে না বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির রংপুর ২ বদনগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ) দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল হাই স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে একথা বলেন তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোকজন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে, অর্থের বিনিময়ে কখনো কারো কাছ থেকে ভোট চায় না। জামায়াতের লোকজন যা বলে সত্য বলে। বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণের কাছে সে ম্যাসেজ পৌঁছে দিয়ে ওয়াদা রক্ষা করে।
তিনি বলেন, নারীরা এদেশের সম্পদ নারীরা ভালো থাকলে এদেশ ভালো থাকবে, নারীদের উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে, নারীরা সর্বস্ব সম্মানিত ব্যক্তি। একজন নারীই পারে আদর্শ সন্তান দিতে। নারীদের কারণেই পুরুষরা সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই নারীরা সর্বক্ষেত্রে সর্বমহলে সম্মানিত এবং শ্রদ্ধেয়। যারা নারীদের অবহেলা করে, নারীদের অসম্মান করে, নারীদের হেনস্তা করে নারীদের প্রতি খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়, তারা কখনোই নারীদের মঙ্গল কামনা করে না। যারা ইসলাম বিদ্বেষী, যারা শয়তানের পথ অনুসরণ করে তারা কখনো নারীদের সম্মান করে না। তাদের কাছে নারীরা ভোগ্য পণ্য। নারীদের আত্মমর্যাদা সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা না জানালে এদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, একটি দল ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের লোভ দেখিয়ে, ব্যাংক ঋণ মউকুফের কথা বলে এনজিও থেকে উত্তোলনকৃত টাকা ফেরতের কথা বলে মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট চাচ্ছেন। যারা ভোটের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট চায়, তাহলে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা ক্ষমতায় এলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের পথ অনুসরণ করে দেশের সম্পদ লুট করে তাদের মত বেগম পাড়ায় গিয়ে আলিশান জীবন যাপন করবে। তাই কোন কার্ডের লোভে পড়ে বা তাদের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে ভোট দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, আজকে এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অনেক মহিলা এসেছেন। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সদস্যদের আচার-আচরণ দেখে তারা আমাদেরকে ভালোবেসে এখানে এসেছেন। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যে ধর্মে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা বলেছে ইসলামে কোন হিংসা বিদ্বেষ নেই। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ ইসলামের অপব্যাখ্যা করে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। তাদেরকে নিচুমানের বলে আখ্যায়িত করে। আর আমরা কখনো কোন ধর্মের লোককে নিচু মনে করিনা আমরা সবাই সমান। এদেশে একজন মুসলমান মহিলার যেমন অধিকার রয়েছে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলার তেমন অধিকার রয়েছে। একজন মুসলমান মহিলার ভোট যেমন গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদের ভোট তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদেশে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমরা সমান অধিকারের অধিকারী।
এটিএম আজহার বলেন, আমরা দেশে কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি দখলবাজি করতে দেব না, আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাচ্ছি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা ভোগ করবে, ইনশাআল্লাহ। তাই আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক দাড়িপাল্লা এবং গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেয়া আহ্বান জানান তিনি।