বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১ শিক্ষককে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আদালত। আওয়ামী লীগ শাসনামলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মিলেমিশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা হস্তগত করেছেন। ২০২০ সালে ১৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন (দুদক) কমিশন বর্তমানের কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও তিন আসামিকে যুক্ত করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ফারুক হোসেন আলোচিত এই মামলাটিতে সেই ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত শিক্ষকরা হলেন: পুতুল রানি মন্ডল, কল্যাণী দেবনাথ, গোলাপি রানি, সাবরিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবিব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন এবং মনিরুজ্জামান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত ২১ শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে বুধবার বিদ্যালয়ে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা মামলাটি থেকে জামিন নিতে বরিশাল শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন।’
বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, ‘মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে ভুয়া রেকর্ডপত্র সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাৎ করেন।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় দুদকের বর্তমানের কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলাটি করেন। দুদক কর্মকর্তা রাজ কুমার সাহা ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারক শেখ ফারুক হোসেন প্রতিবেদনটি আমলে নেন এবং আসামিদের অনপুস্থিতিতে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।