ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী এস. এ. জাহিদের বিরুদ্ধে।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিওতে এস. এ. জাহিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. রাশেদুল আলমকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়—‘জয়পুরহাট-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী একদম অপদার্থ, মূর্খ।’
এ ঘটনায় জয়পুরহাট-২ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য ফয়সাল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ধরনের মন্তব্য একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা ও চরিত্রহননের শামিল। যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫ (ক)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এস. এ. জাহিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জয়পুরহাট সদর সিনিয়র সিভিল জজ ও নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এস. এ. জাহিদ এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়পুরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কালাই উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান সরকারের ছেলে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও তত জোরালো হচ্ছে—যা প্রার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্ক বার্তা।