মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি, ধারণাটি পরিবর্তন করতে হবে : সড়কমন্ত্রী বিধানসভায় হার, এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খেলায় দৌঁড়াবেন মমতা? ডাকাত দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ‘গলা কাটা রাজু’ মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং নেতা ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ গ্রেপ্তার জার্মানি থেকে দেশবন্ধু উপাধিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোবাইল ফোনের আসক্তিতে বই পড়ার অভ্যাস বিলুপ্তির পথে : হাবিপ্রবি উপাচার্য ব্রিটেনে স্থানীয় নির্বাচনে লড়বেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩ শতাধিক প্রার্থী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ভারতজুড়ে যে দিন বন্ধ থাকবে সমস্ত ওষুধের দোকান আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ

জামিনের পর কারাগার থেকে মুক্ত সেই সাদ্দাম

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর চার দিন পর মানবিক বিবেচনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কারাগারে জামিনের আদেশ পৌঁছানোর পর দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসিফ উদ্দীন। এর আগে, গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ তার ছয় মাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তিনি ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি।

সাদ্দামের স্বজন ও কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশে নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন।

তবে ২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে, সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে যশোর কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে লুকোচুরি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাফটকে যশোরের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তির বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য না দেওয়ায় জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কেউ সাড়া দেননি।

পরে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিফ উদ্দীন জানান, দুপুরেই সাদ্দামের মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লুকোচুরির বিষয়ে তিনি জেলরের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে জেলার আবিদ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছে সাদ্দাম তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102