একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খ্যাতনামা সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। বিবিসি হিন্দির খবরে এ তথ্য জানানো হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
মার্ক টালি দীর্ঘদিন বিবিসির ভারত ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত শতকের ষাটের দশক থেকে শুরু করে কয়েক দশক তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মার্ক টালি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ান। সীমান্তবর্তী শরণার্থীশিবির ও দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি বাঙালিদের দুর্দশা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। তার পাঠানো প্রতিবেদনগুলো বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে। পাশাপাশি ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে। নিজ দেশ যুক্তরাজ্য থেকেও তিনি নাইটহুড উপাধি লাভ করেন।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক মার্ক টালির জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জে। তার বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। শৈশব কলকাতায় কাটালেও নয় বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান এবং সেখানেই স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে মন না বসায় তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও ধর্ম বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, যদিও সেই শিক্ষা তিনি শেষ করেননি।
১৯৬৪ সালে মার্ক টালি বিবিসিতে যোগ দেন। পরের বছর তিনি দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর তিনি দিল্লিতে বিবিসির ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মার্ক টালির স্ত্রী মার্গারেট ও তাদের চার সন্তান লন্ডনে থাকতেন। তবে তিনি নিজে দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করতেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি আলোচিত বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— অমৃতসর: মিসেস গান্ধীস লাস্ট ব্যাটল, রাজ টু রাজিব: ফর্টি ইয়ার্স অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স, নো ফুল স্টপ ইন ইন্ডিয়া, আনএন্ডিং জার্নি, ইন্ডিয়া: দ্য রোড অ্যাহেড এবং হার্ট অব ইন্ডিয়া।