সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

বিভাজন তৈরি হলে লাভবান হবে স্বৈরাচারীরা : ইশরাক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হলে এর সুফল পাবে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে আবারও দেশে দুঃশাসনের পথ সুগম হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের এডভোকেট মো. সানাউল্লাহ মিয়া হলে বৃহত্তর ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবীবৃন্দের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা যদি একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ নষ্ট করি এবং বিভাজন সৃষ্টি করি, তাহলে এর চূড়ান্ত সুবিধাভোগী কারা হবে তা আমাদের সবাইকে ভেবে দেখতে হবে। তারা যদি আবার ফিরে আসে তাহলে দেশের কী অবস্থা হবে সেটিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, রাজনীতির সঙ্গে আইন ও আইনজীবীদের ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা হওয়ায় তিনি দেশের সব পর্যায়ের আইনজীবী ও আইনজীবী নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মহান আল্লাহ যদি আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আপনাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই, যাতে সংসদে গিয়ে আইন প্রণয়নে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।’

২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আইন প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, তা বাস্তবায়নে সংসদে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা জরুরি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না থাকায় নতুন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা এখনো অনুশোচনায় নেই। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে তা যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ হয় এবং ভোটের রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাকে ও আমাদের শীর্ষ নেতাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আমরা জেল-জুলুম, গুম ও খুনের শিকার হয়েছি, তবুও জনগণের ইস্যুতে রাজপথ ছাড়িনি।’

২৮ অক্টোবর ও গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর হরতাল-অবরোধ ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে, অথচ এখন কেউ কেউ সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টার্গেট করার অভিযোগ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার শুরু হয়েছে, যা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহাবস্থান চেয়েছি এবং উদারতার পরিচয় দিয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদারতার কারণেই তারা রাজনীতিতে ফিরে এসেছিল। কিন্তু সেই উদারতার সম্মান তারা রক্ষা করছে না।’

এ সময় উপস্থিত আইনজীবী ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে একটি সুযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ, জনগণের প্রত্যাশার বাইরে কোনো কাজ আমার দ্বারা হবে না।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. শহীদ গাজী, অ্যাডভোকেট মো. আক্তার হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আল-মামুন মিয়াসহ অন্যান্যরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102