বাংলাদেশ সোসাইটি ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকস (BSPUA) প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং আইনটি চূড়ান্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের (stakeholder) সঙ্গে বিস্তারিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ গ্রহণের জোরালো দাবি জানাচ্ছে।
বিএসপিইউএ মনে করে, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তারা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের মৌলিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে—এমন একটি আইন প্রণয়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সম্মিলিত মতামত গ্রহণ অপরিহার্য।
সংগঠনটি মনে করে, এ ধরনের একটি কাঠামোগত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবসম্পন্ন আইন জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রণীত হওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে আইনটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হলে গণতান্ত্রিক পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিএসপিইউএ আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায় যে, প্রস্তাবিত খসড়া আইনের কিছু ধারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র শাসনব্যবস্থাকে অনেক দুর্বল করবে ও ভারসাম্য নষ্ট করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
বিএসপিইউএর মতে, কার্যকর সংস্কার কেবল পারস্পরিক আস্থা, যৌথ দায়িত্ববোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই সম্ভব। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের প্রতিফলন ছাড়া আইন প্রণয়ন করা হলে তা অপ্রয়োজনীয় অস্থিরতা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানায় যে, প্রশ্নটি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং প্রশ্ন হলো—এটি কি সঠিক সময়ে, সঠিক প্রক্রিয়ায় এবং সঠিক পদ্ধতিতে করা হচ্ছে কি না। এ মুহূর্তে তাড়াহুড়ার পরিবর্তে পরামর্শ ও সতর্কতাই জাতীয় স্বার্থে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
অতএব, বিএসপিইউএ সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ চূড়ান্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন তথা স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।
বিএসপিইউএ মনে করে, অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে রচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অধিকতর গ্রহণযোগ্য, বাস্তবায়নযোগ্য ও টেকসই হবে।
বিএসপিইউএ গঠনমূলক সংলাপে বিশ্বাস করে এবং জাতির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে যে কোনো দায়িত্বশীল আলোচনায় অংশগ্রহণে প্রস্তুত।