শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) দিন দিন বেড়ে চলছে মাদকের আগ্রাসন। মাদক সেবন ও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ তদারকি ও বিচারহীনতাই এজন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মাদকের সংশ্লিষ্ট একাধিক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) মাদকের আগ্রাসন রোধে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত শেকৃবি শাখার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবীর বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ চোখে পড়ার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা বললেই নামেমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা খুবই দুঃখজনক।’মানববন্ধনে উপস্থিত অ্যানিম্যাল সাইন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরাই মনে হয় প্রক্টরিয়াল বডি হিসেবে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় মাদকের বিরুদ্ধে নিউজ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ ও শাস্তি বাস্তবায়ন হোক।’
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবিসহ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করেন। তবে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রক্টর ও কোষাধ্যক্ষ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় মাদকের আগ্রাসন মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়, মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি এবং শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে বর্তমানে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা, কার্যকর শাস্তির বিধান কিংবা তদারকি জোরদার ব্যবস্থার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর সুযোগে একটি অসাধু চক্র ক্যাম্পাসে মাদক বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিম্নোক্ত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে—
১. শাস্তির বিধিমালা প্রণয়ন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ছাত্রত্ব বাতিলপূর্বক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা।
২. নিয়মিত ও আকস্মিক সন্দেহভাজন ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা। মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে অন্তত দুই সেমিস্টার একাডেমিক বহিষ্কার ও অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা গ্রহণ করা, পুনরায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলের বিধান কার্যকর করা। পাসকৃত শিক্ষার্থী হলে ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা।
৩. মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন ও ক্যাম্পাসে নিয়মিত অভিযান।৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং স্নাতক সার্টিফিকেট প্রদানের আগে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা।
৫. মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিতভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় সাধন।
৬. ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।
শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, উপযুক্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও আদর্শ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা নামলেই ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ও আবাসিক হলের ছাদে বসছে মাদকের আসর। বিজয়-২৪ হল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, শেরেবাংলা হল এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের ছাদে নিয়মিত চলে মাদক সেবন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও গবেষণা মাঠেও নিয়মিত বসছে মাদকের আসর। ছুটির দিনগুলোতে আসছেন বহিরাগত মাদকসেবীরাও। সব মিলিয়ে মাদকের ছড়াছড়িতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিতে পড়েছেন।