রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে বাংলার স্যার সৈয়দ বলা যেতে পারে : ঢাবি উপাচার্য বাদলের ছোটগল্প : জাদুবাস্তবতা ও নববাস্তবতার স্বাদুব্যঞ্জন মুন্সীগঞ্জে স্ত্রী হত্যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বামী গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও দুই নারীর মৃত্যু ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ ও দক্ষিণে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে যুবক ধরা, সংবাদ প্রকাশে যুবদল নেতার হুমকি চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড আমাকে শুধু ১০ শতাংশ দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

ফের পানিতে তলিয়ে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের পানিতে তলিয়ে গেছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুর পাটাতনের উপর প্রায় ৫ ইঞ্চি পরিমান পানি উঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে পর্যটন হলি ডে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

‎তবে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও গত শুক্রবার ঝুলন্ত সেতু এলাকায় দেখা গেছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়। কর্তৃপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছেন।

‎পর্যটকদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদেরকে সেতুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারে অফিস আদালত বন্ধ থাকার কারনে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে এসেছে।

‎এ বিষয়ে ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, এর আগে সেতুটি ভেসে ওঠার পর সেতুটি মেরামত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সেতুতে কোনো ঝুঁকি নেই। সরকারি ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসায় তাদের কথা বিবেচনা করে সেতুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ২-৩ দিনে এত পর্যটক রাঙামাটিতে আসছে কোন ভাবেই তারা বাঁধা মানছে না। তারা ঝুলন্ত সেতু উপভোগ করতে অনড়।

‎বুঝার জন্য একটু জানিয়ে রাখি, গত ২৯ আগস্ট টানা ও ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে ঝুলন্ত সেতুটি ২-৩ ফুটের মত পানিতে তলিয়ে যায়।

‎ওই দিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পর্যটন কর্তৃপক্ষ। পরে হ্রদের পানি কমে গেলে ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে ওঠে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

‎কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে।

‎বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গেলে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সেতুতে উঠার সুযোগ না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরতে হয় তাদের গন্তব্যস্থলে।

‎দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসে দেখা হলো ডুবন্ত সেতুর সাথে। যদিও সেতুর উপর ৪-৫ ইঞ্চি পানি দেখতে পেলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ ঝুলন্ত সেতুটি যেন ২-৩ ফুট উচু করা হয়। রাঙামাটির পর্যটন শিল্পকে আরও বেগবান করতে হলে সবাইকে নিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে।

‎ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, দেশের একমাত্র দৃষ্টি নন্দন ও আকর্ষণী রাঙামাটির দর্শণীয় ঝুলন্ত সেতুটি প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পেলে তলিয়ে যায়। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারায় পর্যটন কর্পোরেশন হলি ডে কমপ্লেক্স।

তাই দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের দাবি সেতুটি যেন ৩-৪ ফুট উচু করে তাহলে এই সমস্যা পোহাতে হবে না পর্যটক পিপাসুদের। তাই পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ চাইলে এইটা সম্ভব বলে করেন আগত পর্যটকরা। রাঙামাটি জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসক উদ্যোগ নিলে ঝুলন্ত সেতুসহ রাঙামাটির পর্যটনশিল্পকে উন্নয়নের শিখড়ে নিয়ে যেতে পারে এমনটি বলছে সচেতন মহল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102