বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের ইবির সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালু হাম ও হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াল হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, বাড়বে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সোনালী ব্যাংকের সাবেক ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাতজনের ১০ বছর কারাদণ্ড চীনে এপিএসসিও কিউবস্যাট ক্যাম্পে ড. শাহনেওয়াজের নেতৃত্বে বাংলাদেশি দল কেন বিশ্বে সরকারি ছুটি বাংলাদেশে বেশি? লিবিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৫ যুবক, তিন বছরেও মেলেনি সন্ধান ইতালিতে কাউকে তরল বা পানি ছুড়ে মারলে শাস্তি কী

চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চাঁদপুরের তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আইনজীবীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।

যে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন-চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ শম্পা ইসলাম।

সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, এসব বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের। বিষয়গুলো নিয়ে আইনজীবী সমিতির নেতারা তাদের মৌখিকভাবে অবহিত করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং নিজেদের মতো করে বিচারকার্য পরিচালনার কারণে আইনজীবীদের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে সমিতি আদালত বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু তিনটি আদালত নয়, আরও কয়েকটি আদালত এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে ‘শিক্ষক-ছাত্রের মতো’ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আইনজীবীদের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এসব সমস্যা সমাধানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বসে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বার সভাপতি। একই সঙ্গে আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী সাত দিন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের দপ্তর থেকে মামলার কপির জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। আদালতের পেশকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন আচরণে আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অসম্মানিত হয়ে আসছেন বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।

অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান না হলে লিখিতভাবে সব সমস্যা তুলে ধরে বার কাউন্সিলকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো আইনজীবী বা তাদের সহকারী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কোহিনুর রশিদ, জিপি এজে এম রফিকুল হাসান রিপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কোহিনুর বেগম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার, সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, একিউএম মোস্তফা কামাল, আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ (১) ও মো. জসিম মেহেদী।

এ ছাড়া আইনজীবীদের মধ্যে জাকির হোসেন, তাফাজ্জল হোসেন, মহসিন খান, সলিম উল্যাহ সেলিম, বাপ্পি, আলম খান মঞ্জু, আব্দুল লতিফ শেখ, শাহ আলম ফরাজী, নাইমুল ইসলাম, আক্তার সরকার, কামাল উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, গাজী দুলাল ও সাদ্দাম হোসেন বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বিচারপ্রার্থীদের সেবা দিতে গিয়ে আইনজীবীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বিচারকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চান বলেও জানান আইনজীবীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102