যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে ইরানের বড় আকারের তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কায়লো। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কায়লোসহ ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। মার্কিন পক্ষের দাবি, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড তাদের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এসব ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
হামলার পর কায়লো ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিট সেন্টকম। রোববার সকালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ‘পেশাদারিত্ব ও নিখুঁততার’ কারণে এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহাজটি এখন সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইরানের নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ দিন ধরে যুদ্ধ চলে। সেই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ইরানের নৌবাহিনীকে তারা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে এবং দেশটির বেশিরভাগ যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানের নৌযানগুলোর সঙ্গে এবার এম/টি কায়লোও যুক্ত হলো।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচলের অভিযোগে হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ড তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে ইরানের সর্বশেষ হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।