অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন, জিজি প্যানেল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান (সাঈদ)। সঞ্চালনায় ছিলেন জিজি প্যানেলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী প্রকৌশলী পৃথ্বিলা কামাল।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং গীতাপাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয় এবং এরপর জিজি প্যানেলের মহাসচিব পদপ্রার্থী প্রকৌশলী এএসএম হাফিজুর রহমান নিক্সন, প্যানেলের সবাইকে উপস্থিত অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, আইটিইটি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে ভাড়া অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্তর্বর্তীকালিন কমিটি রাজউক থেকে বরাদ্দ পাওয়া ১০ কাঠা জমির তৃতীয় কিস্তি ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আইটিইটি ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাশের আরও ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত দাবি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও একটি লক্ষ্য হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিসিএস ক্যাডার চালু করা।
তিনি আরও বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সময়ে আইটিইটির ওয়েবসাইট চালু, ক্যারিয়ার ফেয়ার, সেমিনার, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ইফতার মাহফিল ও পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনকে সক্রিয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে অসচ্ছল ও চিকিৎসা সহায়তাপ্রার্থী সদস্যদের সহযোগিতা করা হয়েছে। আমাদের প্যানেল বিজয়ী হলে ভবিষ্যতে সদস্যদের জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স চালু, চাকরিক্ষেত্রে হয়রানির শিকার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আইনি সহায়তা এবং আইটিইটিতে স্থায়ী আইন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম শামসুদ্দিন খান বলেন, আমাদের প্যানেলকে যদি একটি মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে সভাপতি থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রার্থী সেই দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মতো। শরীরের কোনো অঙ্গ যেমন বাদ দেওয়া যায় না, তেমনি আমাদের প্যানেলের ২৭ জন প্রার্থীর একজনকেও আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জন করতে হবে। টেক্সটাইল খাতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে টেক্সটাইল শিক্ষাকে ডিপ্লোমা থেকে ডিগ্রিতে উন্নীত করার মাধ্যমে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি প্রথা চালু হওয়ায় দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত বড় সুবিধা পেয়েছে। এ ছাড়াও বলেন প্যানেল বিজয়ী হলে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।
সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান (সাঈদ)। তিনি বলেন, আইটিইটি নির্বাচন শুধু ভোটের আয়োজন নয়, এটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মিলনমেলা ও উৎসব। ১৯৮৪ সাল থেকে এই সংগঠনের নির্বাচন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেখেছি, প্রতিবারই এটি পেশাজীবী প্রকৌশলীদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে ৪১তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের তরুণদের উপস্থিতি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। তাদের অংশগ্রহণ আইটিইটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এ ছাড়া পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে আইটিইটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সমন্বিত প্রার্থীদের নিয়ে আমাদের এই প্যানেল সাজানো হয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি, সংগঠনের কার্যকর নেতৃত্ব এবং সদস্যদের স্বার্থরক্ষায় এই প্যানেল কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জিজি প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা এবং ৪১তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের ভোটারদের মধ্যে আইটিইটির প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রকৌশলীরা।







