রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের কারণে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান স্মরণ ও সম্মান জানাতে হবে। এজন্য জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা-ভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। প্রচলিত সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল কমিউনিকেশনসহ নানা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার বড় অংশ এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়। তাই দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রমকে শ্রমবাজার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির কারণে অনেক পুরোনো পেশা ঝুঁকিতে পড়লেও নতুন নতুন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তি ও বাস্তব দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি। শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

তারেক রহমান নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক দায়িত্ববোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক গুণাবলিও শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলেও অনেকেই চাকরির অভাবে ভোগেন। এজন্য ব্যবহারিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ইনোভেশন গ্রান্ট ও সিড ফান্ডিং প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তরুণরা নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102