বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় করা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর সরকার ৭.৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখে। তবে এই খাতকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) পাঁচটি খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট চালু, ১০ বছরের কর-সুবিধা, উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, বিনিয়োগ ও আর্থিক খাত সংস্কার, শিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, সেবা খাতের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে।
যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যবহুল, শিক্ষামূলক বা বিনোদনধর্মী ছবি, অডিও কিংবা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদের কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলা হয়। তারা ইউটিউব অ্যাডসেন্স, ফেসবুক মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড প্রমোশন ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে আয় করেন।
বর্তমান ব্যবস্থায় এসব আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আসার সময় ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭.৫০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখে এবং অবশিষ্ট অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পৃথক কোনো সংজ্ঞা উল্লেখ করা হয়নি। তবে যাদের নিজস্ব অফিস নেই এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে কাজ করেন, মূলত তারাই এই কর-সুবিধার আওতায় আসবেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠান তাদের ফেসবুক পেজ থেকে আয় করলে সেই আয়ের ওপর ৭.৫০ শতাংশ কর দিতে হবে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী ব্যক্তিগতভাবে ছোট পরিসরে ফেসবুক থেকে আয় করলে তাকে কর দিতে হবে না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া। তাদের উৎসাহিত করতেই এই কর-ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের এ উদ্যোগের পর ডাচ-বাংলা ব্যাংক ইতোমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ফ্রিল্যান্সারের হিসাব থেকে কর বাবদ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ব্যাংকটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ বলেন, ‘আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর আগে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৭.৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে কর্তন করা অর্থ কীভাবে দ্রুত ফেরত দেওয়া যায়, সে বিষয়েও কার্যক্রম চলছে।’
এর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার কর প্রত্যাহার, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর আরোপের পরিকল্পনা বাতিল, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত আংশিক প্রত্যাহার এবং আবগারি শুল্কের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।







