শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

বিসিটিআইতে ‘চলচ্চিত্রের সংগীতে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর আয়োজনে “প্রেক্ষাপট সাংস্কৃতিক সমরূপতা: চলচ্চিত্রের সংগীতে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলচ্চিত্রে সংগীতের গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে এর ভূমিকা এবং বিশ্বায়নের প্রভাবের মধ্যে দেশীয় সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়গুলো কর্মশালায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

শুক্রবার (২২ মে) বিসিটিআইয়ের সভাকক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। তার প্রবন্ধে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতকে সাংস্কৃতিক সমরূপতা (Cultural Homogenization) ও বৈশ্বিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হয়। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে সংগীত শুধু আবেগ বা বিনোদনের উপাদান নয়; এটি সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ এবং স্থানিক বাস্তবতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বায়নের ফলে এক ধরনের ‘গ্লোবাল সাউন্ড’-এর বিস্তার ঘটলেও বাংলাদেশের লোকজ সুর, আঞ্চলিক বাদ্যযন্ত্র, প্রাকৃতিক শব্দ ও দেশীয় অভিজ্ঞতা একটি স্বতন্ত্র সাউন্ডস্কেপ তৈরি করেছে, যা জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিংয়ের শক্তিশালী উপাদান হতে পারে।

অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার কাওসার হোসেন, একুশে পদক এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান এবং বাচসাস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। শেখ সাদী খান বলেন, সিনেমা মূলত জীবনের প্রতিচ্ছবি। দৃশ্য ও পরিস্থিতির সঙ্গে সংগীতের সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত নির্বাককে সবাক করে তোলে এবং গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বাণী, সুর ও শিল্পীর সঠিক সমন্বয়ই একটি গানকে জনপ্রিয় ও কালজয়ী করে।

রফিকুল আলম বলেন, সিনেমায় সংগীত পরিস্থিতির আবেগ ও অনুভূতিকে ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় দর্শকদের মানসিক স্বস্তি দিতেও গান প্রয়োজন হয়। গান আমাদের সংস্কৃতি ও অনুভূতির গভীরে প্রোথিত।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রযোজক ও অভিনেতা হেলাল খান। তিনি বলেন, গান আমাদের চলচ্চিত্রের প্রাণ। অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিশ্বব্যাপী বাংলা গানের গুরুত্ব রয়েছে। তাই আমাদের সংগীতের শক্তি ও সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, ভারত যেভাবে চলচ্চিত্র ও সংগীতের মাধ্যমে বিশ্ববাজার তৈরি করেছে, সেটি দীর্ঘ সাধনা ও পরিকল্পনার ফল। বাংলাদেশেরও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিসিটিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। তিনি বলেন, ভারতের পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউট যেভাবে দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, বিসিটিআইকেও আমরা সেভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখি, যেদিন দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের বিসিটিআইয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেবেন।

কর্মশালার সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিসিটিআইয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সংগীতের ভূমিকা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের চ্যালেঞ্জ এবং দেশীয় সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102