পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি ও উত্তেজনা হ্রাস চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা (আইএলএনএ)-র আল-আরাবিয়া টিভির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তিটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান- কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তির কথা নিশ্চিত করেনি।
চুক্তির খসড়ায় কী আছে?
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী খসড়া চুক্তিতে মূলত উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে।
প্রথমত, স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবিলম্বে, ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ একে অপরের সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু না করার অঙ্গীকার করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সামরিক অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন প্রচারণা বা “মিডিয়া যুদ্ধ” বন্ধের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিগত অবস্থান গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত মানার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকিবান্ধব মনোভাব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি, তেলের দামে পতন এবং ডলার ও ট্রেজারি ইল্ডে চাপ দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে একাধিক আন্তর্জাতিক যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এখনো ‘প্রাথমিক খসড়া ও যাচাই না হওয়া তথ্য’— এবং চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়েছে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। কিছু সূত্র এই দাবিকে এখনো কূটনৈতিক আলোচনা পর্যায়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।