শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চায় তরুণরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

শুক্রবার (৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ইয়ুথ ফর এনডিসির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দুই শতাধিক তরুণ জলবায়ুকর্মী অংশ নেন।

এ সময় ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির আর্থিক চাপ এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। ‘ভুয়া সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি চাই’- এমন স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

সমাবেশে ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, ‘দ্রুত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। খসড়া ইপিএসএমপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর ব্যয়বহুল এলএনজির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।’

তরুণরা সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইয়ুথ ফর এনডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমানউল্লাহ পরাগ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মূল্য আমরা আর দিতে পারি না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বহন করতে গিয়ে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমাদের আরও সাশ্রয়ী জ্বালানি দরকার, আর সে জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।’

এবারের জলবায়ু ধর্মঘট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে উচ্চমূল্যে এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে এবং অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশকে বারবার বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। নতুন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হলে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেন তারা।

তরুণদের ভাষ্য, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা যাবে না। এখন আমরা নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই, সরকার শুধু সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তরুণদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।’

তারা উল্লেখ করেন, সরকারি ভবনগুলোতে ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

তরুণরা আরও বলেন, সৌর সরঞ্জামের ওপর উচ্চ কর, বিনিয়োগে জটিলতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই সৌর সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক সরকারি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপও প্রয়োজন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে আন্দোলনকারীরা বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন আর বিকল্প কোনো বিষয় নয়। বিশ্ব জলবায়ু চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন শক্তিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে।

তারা উন্নত দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে দ্রুত আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, ‘বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা এখন শুধু দাবি নয়, প্রয়োজন। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধের বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন স্বাধীনতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। দেশে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অনেক অব্যবহৃত জমি রয়েছে, যা দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যেতে পারে।”

আয়োজকরা জানান, একই সময়ে দেশের ৫০টি জেলায়ও অনুরূপ জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।—

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102