ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাইয়ের সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সি এক গৃহবধূ পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তিনি তার ছোট দুই সন্তানকেও সাথে নিয়ে গেছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রিমি খাতুনের সাথে শৈলকুপার রাশেদ আলীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পেশাগত কারণে রাশেদ আলী প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুরের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে রিমির পরিচয় হয়। মামুন নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে রিমির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে রিমি তার বড় মেয়ের সাথে মামুনের বিয়ে ঠিক করেন। তবে মা ও হবু বরের মধ্যে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করে মেয়ে এই বিয়েতে অসম্মতি জানায়। এই নিয়ে পরিবারে তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বড় মেয়েটি একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
মেয়ের মৃত্যুর পরেও রিমি ও মামুনের মধ্যকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি। স্বামী রাশেদ আলী বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে বারবার সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে প্রেমিক মামুনের সাথে পালিয়ে যান রিমি। এ ঘটনায় নিরুপায় স্বামী রাশেদ আলী শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শৈলকুপা থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। নিখোঁজ গৃহবধূ ও শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।