বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও নতুন করে শান্তি আলোচনার জন্য কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি জানান, তেহরানের ওপর গত এক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং আলোচনার জন্য ইরান কী ‘প্রস্তাব’ দেয়, তার অপেক্ষায় থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে আলোচনার টেবিলের সময় না থাকলেও ট্রাম্পের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা।

‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, ১ মে’র মধ্যে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের কাছ থেকে সামরিক অভিযানের অনুমোদন নিতে হবে। এ আইন (কখনো কখনো ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট বলা হয়) অনুযায়ী, কংগ্রেসের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ৬০ দিনের বেশি সেনা মোতায়েন রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এ অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হতে হয়, যা এখন পর্যন্ত হয়নি।

তবে অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্য আইনি অজুহাতে এই নিয়ম এড়িয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেছেন।

ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কী

১৯৭৩ সালে প্রণীত এই ফেডারেল আইনের মূল লক্ষ্য ছিল, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা খর্ব করা। এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। এরপর তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। কংগ্রেস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে। তবে এর বেশি সময় সেনা মোতায়েন রাখতে হলে কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণা প্রয়োজন।

কলোরাডো ল’ স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মারিয়াম জামশিদি বলেন, ‘৬০ দিনের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়াতে হলে প্রেসিডেন্টকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, সামরিক প্রয়োজনে এটি ‘অপরিহার্য’। অন্যথায় ৯০ দিন পর সেনা সরিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট বাধ্য। তবে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টকে এটি মানতে বাধ্য করার আইনি পথ বেশ জটিল। অনেক সাবেক প্রেসিডেন্ট এ আইনকে ‘অসাংবিধানিক’ দাবি করে তা মানতে অস্বীকার করেছেন।

কংগ্রেসের অনুমোদন কি পাবেন ট্রাম্প

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর বিভেদ রয়েছে।

গত ১৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে সিনেটে ব্যর্থ হয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা এমন একটি যুদ্ধের ওপর নজরদারি করতে অস্বীকার করছেন, যাতে প্রতি সপ্তাহে শত শত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে—এটি বিস্ময়কর।’

রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশ এ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও ৬০ দিন পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস বলেন, ‘আমি মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ সমর্থন করি। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক তৎপরতা সমর্থন করব না।’

রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ডন বেকনও একই সুরে বলেন, অনুমোদন না পেলে আইনত অভিযান বন্ধ করতে হবে।

এমনকি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক অনেক রিপাবলিকানও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাঁরা এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টায় বাধা দিলেও, যুদ্ধ ৬০ দিনের বেশি গড়ালে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102