দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের প্রতিটি ধূলিকণা যেন কাল এক পুরোনো চেনা গন্ধে বিভোর ছিল। যে মাটির ঘ্রাণ নিয়ে একদিন এক কিশোর ক্রিকেটের স্বপ্ন বুনেছিলেন, ঠিক সেই মাটির কোলেই ফিরে এসে তিনি পূর্ণ করলেন আইপিএলের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় বৃত্ত।
বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৯ হাজার রানের সেই গগনচুম্বী চূড়ায় পা রাখলেন বিরাট কোহলি, যা আগে ছিল কেবলই এক কাল্পনিক মাইলফলক।
মঞ্চটা আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিলেন আরসিবির বোলাররা। জশ হ্যাজেলউড আর ভুবনেশ্বর কুমারের বোলিং তোপে দিল্লি ক্যাপিটালস যখন মাত্র ৭৫ রানেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল, তখনই ক্রিকেট ভক্তরা বুঝে গিয়েছিলেন—আজ রাতটি হতে চলেছে বিরাটের রেকর্ডের এক মাহেন্দ্রক্ষণ।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাটের ব্যাট যখন কথা বলতে শুরু করল, গ্যালারির হাজার হাজার মানুষ তখন ক্ষণ গুনছিলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের।
মাঠে বিরাটের শরীরী ভাষা ছিল কোনো এক দক্ষ সেনাপতির মতো। ১৫ বলে অপরাজিত ২৩ রানের সেই ছোট্ট ইনিংসটি কেবল কিছু রানের সমষ্টি ছিল না, তা ছিল শুদ্ধ আভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশ।
ম্যাচের শেষ লগ্নে যখন জয়ের জন্য আর সামান্য পথ বাকি, ঠিক তখনই বিরাটের ব্যাট থেকে এল সেই মহাকাব্যিক দুটি ছক্কা। টানা দুটি ছক্কায় যখন বল সীমানা ছাড়াল, তখন কেবল ম্যাচ শেষ হয়নি, বরং ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা হয়ে গেল ‘৯০০০ রান’। নিজের চেনা শহরে, চেনা গ্যালারির সামনে বিরাটের এই অর্জন যেন এক পূর্ণতা পাওয়া কাব্য।
বিরাটের এই রেকর্ড কেন এত স্পেশাল? কারণ, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ‘বদল’ হওয়ার যুগে তিনি এক বিরল ‘একনিষ্ঠ অনুরাগী’। ২০০৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কত দল ভাঙল, কত জার্সি বদলাল, কিন্তু বিরাট রয়ে গেলেন সেই একই লাল-কালো গালিচায়—রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে।
একটি মাত্র দলের হয়ে ৯০০০ রান করা কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি পতাকার প্রতি তার আনুগত্য আর অটুট ভালোবাসার এক জীবন্ত দলিল। ৮টি সেঞ্চুরি আর ৬৬টি হাফসেঞ্চুরির যে রাজপ্রাসাদ তিনি গড়েছেন, তার প্রতিটি ইট গেঁথেছেন নিজের রক্ত-ঘাম দিয়ে।
ম্যাচ শেষে যখন আরসিবি পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আর বিরাটের মাথায় অর্জনের নতুন মুকুট, তখন মনে হচ্ছিল সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে। চলতি আসরে ১৬২-র বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা এই কোহলি যেন আরও বেশি ক্ষুরধার, আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য।