মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

লাভ ট্র্যাপে ফেলে ধর্ম লুকিয়ে মুসলিম তরুণীকে বিয়ে, গর্ভাবস্থায় চলে বর্বর নির্যাতন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেমের অভিনয়। নিজের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন করে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ের পর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মনিষ নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের তিলক নগর থানা এলাকায়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, মনিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ওই নারী জানতে পারেন, তার স্বামী আসলে নিজের পরিচয় গোপন করেছিলেন।

নির্যাতিতা জানান, তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। তিনি বলেন, “গর্ভাবস্থায় মনিষ অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত ছিল। আমি বাধা দিলে সে আমাকে নির্মমভাবে মারধর করত। সন্তানের কথা ভেবে আমি এতদিন সব মুখ বুজে সহ্য করেছি।”

গত নভেম্বরে ওই নারী যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপরই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, ছেলে সন্তান না হওয়ায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। এমনকি তারা এমন মন্তব্যও করেন যে, “শিশুরা যদি এনআইসিইউ-তেই মারা যেত, তবেই ভালো হতো।”

হাসপাতালের খরচ মেটানোর অজুহাতে ওই নারীকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। কথা না শুনলে স্বামী, ননদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে তাকে মারধর করত বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তিনি বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও প্রতিকার পাননি। শুরুতে পুলিশ এফআইআর না লিখে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অভিযোগ গ্রহণ করে এবং তাকে আপস করার পরামর্শ দেয়। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আইনের প্রতি আমার এখন আর কোনো ভরসা নেই।”

বর্তমানে ওই নারী তার মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার অভিযোগ, স্বামী জোরপূর্বক তার সন্তানদের নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এবং তার প্রয়োজনীয় নথিপত্র আটকে রেখেছেন। সন্তানদের ফিরে পেতে এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে তিনি এখন জীবনযুদ্ধের লড়াই চালাচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102