মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

উগ্র হিন্দুত্ববাদী চক্রের ‘লাভ ট্র্যাপে’ পড়ে চরম দুর্বিষহ জীবনে বহু মুসলিম তরুণী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে ক্রমাগত আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। অথচ সরকারি পরিসংখ্যানে এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রোপাগাণ্ডাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মুসলিম তরুণীদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের এই ‘লাভ ট্র্যাপ সেলে’ নিযুক্ত করা হচ্ছে। তাদের কাজ হলো কৌশলে মুসলিম তরুণীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে তাদের ধর্মান্তরিত করা অথবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে জীবন দুর্বিষহ করে তোলা।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত ‘লাভ ট্র্যাপ’ নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এই সুসংগঠিত চক্রের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন সহজ-সরল মুসলিম নারীরা। তথাকথিত প্রেমের আড়ালে তাঁদের প্রলুব্ধ করে শেষ পর্যন্ত এক দুর্বিষহ জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রান্তের শিকার হয়ে অনেক তরুণী যেমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন, তেমনি অনেকে সামাজিক লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতকেন্দ্রিক এই ইসলাম-বিদ্বেষী উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কের বিস্তার এখন বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। তথাকথিত ‘লাভ ট্র্যাপ সেল’ পরিচালনার জন্য সাধারণত উচ্চশিক্ষিত এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে সহজেই সাধারণের মনে বিশ্বাস অর্জন করা যায়। এই সেলের সদস্যরা অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে। নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করার পর কেউ ‘প্রেমিকের’ ছদ্মবেশে আবেগের জালে জড়ায়, আবার কেউ ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ সেজে সেই সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্ররোচনা দেয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এই অন্ধকার জগত মুসলিম তরুণীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এই পরিকল্পিত চক্রান্ত রুখতে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারিবারিক সচেতনতা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। এবিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় অতিসত্তর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে পুরো নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটনের দাবি জানিয়েছেন।

ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা অত্যন্ত সুক্ষ্ম কিছু কৌশল অবলম্বন করে। সামাজিক মাধ্যমে অপরিচিত প্রোফাইল থেকে টার্গেটকৃত মুসলিম তরুণীদের রূপ বা গুণের অতি প্রশংসা করে কথোপকথন শুরু করা হয়। এক্ষেত্রে সবার আগে কাজে লাগানো হয় ধর্মীয় আবেগকে। ‘‘ইসলাম আমার অনেক পছন্দ, আমি ধর্মান্তর হতে চাই’’, ‘‘তোমার পর্দা আমাকে মুগ্ধ করেছে’, বা ‘‘হিজাবে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে’’—এমন কথা বলে বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করা হয়। অতঃপর ধর্ম শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে ইসলামি শরিয়াহ বা সংস্কৃতি শেখার নাম করে গড়ে তোলা হয় ব্যক্তিগত সান্নিধ্য। অতঃপর সম্পর্ককে ব্যক্তিগত বিছানা পর্যন্ত গড়িয়ে শুরু হয় জীবন দুর্বিষহ করে তোলার মিশন।

সাম্প্রতিক কালে ভারতের মর্মান্তিক কিছু চিত্র: যখন প্রেম হয়ে দাঁড়ায় মরণফাঁদ

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ের তিলক নগর এলাকায় মনিষ নামক এক যুবক নিজের পরিচয় গোপন করে এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের পর প্রকাশ পায় মনিষের প্রকৃত পরিচয়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থায় তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এমনকি শিশুদের মৃত্যুও কামনা করত। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আপস করার চাপ ওই নারীর জীবনকে আজ অন্ধকারের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে আশীষ গ্যাংওয়ার নামক এক যুবক ইনস্টাগ্রামে ‘রহমান’ পরিচয়ে ফাতেমা নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অতঃপর বিয়ে করার এক বছর পর ফাতেমা জানতে পারেন তার স্বামী একজন হিন্দু। এই সত্য জানাজানির পর তাদের মধ্যে কলহ শুরু হলে একপর্যায়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নাম করে বেরেলি জংশন স্টেশন থেকে তাদের চার মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে চম্পট দেয় স্বামী আশীষ। করুণ পরিণতি ভোগ করা ফাতেমা এখন তার সন্তান ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
ভারতে আরেকটি লোমহর্ষক ঘটনায় ‘লাভ ট্র্যাপে’ পড়ে পরিবারের অমতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দীপককে বিয়ে করেছিলেন ২৩ বছরের হেনা। তিন বছরের সংসারে ভালোবাসার বদলে জুটেছিল মদ্যপ স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সম্প্রতি দিল্লির ওয়েলকাম এলাকায় জনতা মজদুর কলোনিতে হেনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দীপক নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। হেনার পরিবারের দাবি, দীপক বিয়ের আগে থেকেই হেনাকে চাপের মুখে রেখেছিলেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কলকাতার রাজপথে এক ভয়াবহ ও পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী হয় পশ্চিমবঙ্গ। ‘লাভ ট্র্যাপে’ ফেলতে ব্যর্থ হয়ে নারকীয় সহিংসতার পথ বেছে নেয় হিন্দু যুবক সিদ্ধার্থ চারিওয়াল। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শাগুফতা পারভীন (৩০) নামে এক মুসলিম নারীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারে সে। মৃত্যুর আগে শাগুফতা জবানবন্দিতে বলে যান, ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তিনি এই বিয়েতে রাজি হননি। ভারতের প্রথমসারির মিডিয়া এই পৈশাচিক ঘটনাটি এড়িয়ে গেলেও সামাজিক মাধ্যমে এটি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্র্যাজেডি

ভারতের এই পরিকল্পিত ‘লাভ ট্র্যাপ’ কৌশলের বিস্তার এখন বাংলাদেশেও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে ব্যাপকভাবে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অনুকরণে বাংলাদেশেও এই উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যারা সুকৌশলে মুসলিম তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ধর্মীয় আবেগ ও প্রেমের ছদ্মবেশে এক ভয়ংকর ‘লাভ ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ বিস্তৃত হচ্ছে। সামাজিক লোকলজ্জা ও পারিবারিক মর্যাদার ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিনিয়ত এই প্রতারণার করুণ চিত্র ফুটে উঠছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ ধরনের স্পর্শকাতর ও পরিকল্পিত অপরাধের বিষয়টি মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ফলে এই চক্রটি আড়ালে থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম তরুণী প্রতারণার শিকার হয়ে সম্ভ্রম হারিয়ে বিয়ের দাবিতে এক হিন্দু যুবকের বাড়ির সামনে অনশন করছেন। যদিও ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ওই যুবক নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে অথবা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সটকে পড়ে। এই ধরনের অসংখ্য ঘটনা এখন আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন প্রেমের ব্যর্থতা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ২৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিমোর সুইসাইড নোটে উঠে এসেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক সহপাঠীর নাম।সহপাঠী ও পরিবারের দাবি, সুদীপ চক্রবর্তীর প্ররোচণা এবং একটি জটিল ত্রিভুজ প্রেমের ফাঁদে পড়ে মিমো আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশ জানায়, মৃত্যুর আগে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমোর দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল, যার কল হিস্ট্রি সুদীপ ডিলিট করে দিয়েছিলেন।
মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর নানান ধরনের তথ্য সামনে আসছে। ঘটনাস্থল একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের পর ত্রিভুজ প্রেমের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, ঘটনার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শ্রেণিকক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষককে আরেক মুসলিম ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন মিমো, এমন তথ্য জানতে পেরেছেন। বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও আত্মহত্যার পেছনে এটি কারণ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে দাবি করছেন, অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায়ে সংখ্যালঘু সহানুভূতি বিরাজ করায় সহজেই নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছেন উগ্রবাদী এই চক্র। ফলে শিক্ষক বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির পরিচয়ে এক শ্রেণির সংখ্যালঘু যুবক মুসলিম ছাত্রীদের টার্গেট করে তাদের জীবন ধ্বংস করছে। ঢাবির ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘‘পিতৃতুল্য শিক্ষকদের কাছেও যদি আমাদের বোনেরা নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজ যাবে কোথায়?’’
এই ধরনের ঘটনাগুলোতে সাধারণত দেখা যায়, অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী বা শিক্ষিত শ্রেণির হয়ে থাকে, যারা আইনি ও সামাজিক ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। নেটিজেনদের মতে, এই নেটওয়ার্কগুলো তরুণীদের টার্গেট করে প্রথমে মানসিকভাবে দুর্বল করে এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল বা সামাজিক হেনস্তার মাধ্যমে তাদের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলে।
ঢাবির ঘটনায় সালমান ফারসি নামে সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবাহিত হিন্দু শিক্ষক তার ডিপার্টমেন্টের ২জন মুসলিম মেয়েকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। যার মধ্যে একজন মুনিরা মাহজাবিন আজকে আত্মহত্যা করে। বাংলাদেশে অশিক্ষিত কিংবা উচ্চ শিক্ষিত হিন্দু ছেলেরা কতটা ব্যাপক আকারে মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করছে, এ ধরনের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।’’
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘‘মুসলিম ছাত্রী-তরুণীদের সঙ্গে প্রেম বা বিয়ে করার সুযোগ কোনো হিন্দুর নাই। দালাল ইসলামী ও মুসলিম রাজনীতিকদের কারণে এ জঘন্যতম অপরাধ ঘটেছে।৷ চজ ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে একজন মুসলিম ছাত্রী  আত্মহত্যা করেছে, তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে এক হিন্দু শিক্ষক। সারা দেশে এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে। সরকারকে আহ্বান জানাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বিরুদ্ধে এসব জঘন্য শত্রুতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষককে ফাঁসির দাবি জানাই। তাকে এখনই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হোক।

ধর্মীয় ও সামাজিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল অপরাধ নয়, বরং একটি আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। এর মোকাবিলায় তারা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত ব্যক্তির অতি প্রশংসায় প্রলুব্ধ না হওয়া, অনলাইনে কারো সঙ্গে সখ্যতা গড়ার আগে তার প্রকৃত পরিচয় এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, কেউ ইসলাম শিখতে চাইলে তাকে নিজের কাছে না রেখে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা আলেমের কাছে পাঠানো, কোনো বিপদে পড়লে বা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত পরিবারকে জানানো। তারা আরও সতর্ক করেছেন, লোকলজ্জার ভয়ে সত্য গোপন করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। প্রতারণার শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, ভারতে মুসলিম তরুণীদের ওপর এই সুসংগঠিত হামলা চললেও দেশটির সরকার বা প্রশাসন এটি দমনে কার্যকর কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। উল্টো হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বাংলাদেশেও যদি এই নেটওয়ার্ক ডালপালা বিস্তার করতে থাকে, তবে তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিমো হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ‘লাভ ট্র্যাপ’-এর এই বিষবৃক্ষ আগামীতে আরও বহু প্রাণ কেড়ে নেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন একটাই দাবি জোরালো হচ্ছে—ব্যক্তিগত সতর্কতা ও রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারিই পারে মুসলিম তরুণীদের এই পরিকল্পিত ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102