নিহত আনিস ভালসওয়া ডেইরি এলাকার বাসিন্দা এবং আজাদপুর সবজি মান্ডিতে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, রাত ১টার দিকে মান্ডিতে কেনাকাটার টাকা নিয়ে তিনি যখন কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন, পথে টহলরত পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আনিসের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে থানায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ওকে মাঝপথ থেকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর থেকে সকাল ৯টা-১০টা পর্যন্ত ওঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। এরপরই ও মারা যায়।”থানার বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়া আনিসের মা বিচার দাবি করে বলেন, “আমার ছেলে যখন বাসা থেকে বের হয়, তখন ও পুরোপুরি সুস্থ ছিল। পুলিশ ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।”
পরিবার আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় আনিসের সাথে তাঁর এক বন্ধুও ছিল। সেই বন্ধু মারধরের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়েছিল, কিন্তু এখন তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মনে আরও বড় সন্দেহের দানা বেঁধেছে।
আনিস তাঁর স্ত্রী এবং তিন ছোট মেয়েকে রেখে গেছেন। বড় মেয়ের বয়স প্রায় ৮-৯ বছর, মেজ জনের ৬ এবং ছোটটি আরও অনেক ছোট। আনিস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বজনরা জানান, তিনি তাঁর সন্তানদের খুব ভালোবাসতেন। বাবার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম দিশেহারা।
দিল্লি পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রাত ৩:৩০টার দিকে রুটিন টহল চলাকালীন আনিসকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানায় আনা হয়। থানায় আসার পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে পানি দেওয়া হয়েছিল।অবস্থা আরও অবনতি হলে তাঁকে বাবু জগজীবন রাম মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করেছে, আনিসের শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ‘ডিহাইড্রেশন’ বা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন— কেন তাঁকে আটক করা হলো এবং থানার ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল? জাহাঙ্গিরপুরী থানার সামনে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তাঁরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার দাবি করছেন।ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।