রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ড্রোন ও মিসাইল ভাণ্ডার দ্রুত পূর্ণ করা হচ্ছে: যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা ইরানের প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারত-রাশিয়ার; একে অপরের দেশে মোতায়েন করবে সেনা, যুদ্ধবিমান ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য কাল পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা : ট্রাম্প শত্রুর মোকাবিলায় এক চুলও ছাড় নয় : ইরানের সেনাপ্রধান বিতর নামাজের সঠিক নিয়ম ও রাকাত সংখ্যা নিয়ে ইসলামি বিধান আজানের সময় নারীরা মাথায় কাপড় না দিলে কি গুনাহ হয়? লোহিত সাগরের পানি যেভাবে পৌঁছে যায় মক্কার কোটি হাজীদের ওজুর কলে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর হাজার বছরেও শুকায়নি এক ফোঁটা: জমজম কূপের বিস্ময়কর রহস্য স্ক্রিনশট ফাঁস, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ক্রিকেটারের

হাজার বছরেও শুকায়নি এক ফোঁটা: জমজম কূপের বিস্ময়কর রহস্য

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশির নিচে হাজার হাজার বছর ধরে প্রবহমান এক অলৌকিক ঝরনাধারা-পবিত্র জমজম। ইসলামের ইতিহাসের সাথে মিশে থাকা এই কূপ কেবল মুসলমানদের কাছে পবিত্রই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও এক বড় বিস্ময়। প্রতি বছর হজের মৌসুমে কোটি কোটি লিটার পানি উত্তোলনের পরেও এর তলদেশ কখনো শুকিয়ে যায় না।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে যান। তৃষ্ণার্ত শিশুপুত্রের কান্নার এক পর্যায়ে আল্লাহর কুদরতে তাঁর পায়ের নিচ থেকে পানির একটি ধারা প্রবাহিত হয়। বিবি হাজেরা পাথর দিয়ে পানি আটকে দেওয়ার সময় বলেছিলেন ‘জমজম’ (থামো থামো)। সেই থেকেই এর নাম জমজম।

বিজ্ঞানের চোখে জমজম: কেন এটি অনন্য?
সাধারণ কূপের পানি কিছুদিন ব্যবহার না করলে তাতে শ্যাওলা বা দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু জমজমের পানি হাজার বছরেও কখনো নষ্ট হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে:

খনিজ উপাদানের সমৃদ্ধি: এই পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট-এর পরিমাণ সাধারণ পানির চেয়ে বেশি, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক বিশুদ্ধতা: জমজম পানিতে প্রাকৃতিক ফ্লোরাইড থাকায় এতে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু জন্মাতে পারে না।

ক্ষুধা নিবারক: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমজম পানি যে যে নিয়তে পান করবে, তা তার জন্যই কবুল হবে। এটি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, ক্ষুধাও নিবারণ করে।

আধুনিক ব্যবস্থাপনা: কিং আব্দুল্লাহ জমজম প্রজেক্ট
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জমজম কূপের পানি ব্যবস্থাপনা করা হয়।

উত্তোলন: শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮ হাজার লিটার থেকে শুরু করে ১১ থেকে ১৯ লিটার পর্যন্ত পানি উত্তোলন করা যায়।

পরিশোধন: অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পানি পরিশোধন করা হয় যাতে এর প্রাকৃতিক স্বাদ ও গুণাগুণ অপরিবর্তিত থাকে।

সরবরাহ: মক্কা থেকে মদিনার মসজিদে নববী পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই পানি প্রতিদিন পৌঁছে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং স্মার্ট কন্টেইনারের মাধ্যমে হাজীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

জমজম নিয়ে কিছু অবাক করা তথ্য
১. এই কূপটি মাত্র ১৮ ফুট লম্বা এবং ১৪ ফুট চওড়া।
২. মাত্র ৫ ফুট গভীরতা থেকে পানি আসা শুরু হয়।
৩. কয়েক হাজার বছর ধরে বিরতিহীনভাবে পানি দেওয়ার পরেও এর পানির স্তর কখনো আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নামে না।

জমজম পানি আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। বিশ্বের আধুনিক সব পানি শোধনাগার বা ল্যাবরেটরি এই পানির গুণাগুণের রহস্য আজও পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারেনি। বিশ্বাসীদের জন্য এটি শেফা, আর বিজ্ঞানীদের জন্য এক অন্তহীন বিস্ময়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102